চর্যাপদের সাহিত্যমূল্য
By sup | 22-01-23

চর্যাপদের সাহিত্যমূল্য:-

সহজিয়াপন্থী নামে পরিচিত একশণীর বৌদ্ধ সাধক তাদের সাধনার গুঢ় তত্ত্ব কে লৌকিক জীবনের আধারে রূপক ও সংকেত এর সাহায্যে প্রকাশ করতেই চর্যাপদ রচনা করেছিলেন। তাই চর্যাপদ ধর্ম বিষয়ক রচনা হলেও গানগুলির সাহিত্যমূল্য কে একেবারে অস্বীকার করা যায় না।

বহুবিচিত্র অনুভব ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় চর্যাপদ এ , যার কোন কোন একটি পদ মানবিক আবেদনে রসসিক্ত। যেমন কুক্কুরী পাদের একটি পদে পাওয়া যায় –

“ফেটলিউ গো মাত্র অন্ত উড়ি চাহি”।

– অর্থাৎ মাগো আমি প্রসব করেছি এখন দরকার একটি আঁতুড়ঘরের। দুখিনী নারীর এই কাতর আর্তি একালের পাঠকের মনকে ছুঁয়ে যায়। আবার ঢেন ঢোন পাদের একটি পদে আমরা দেখতে পাই নিঃসঙ্গ আর বিড়ম্বিত জীবন কত বেদনার –
“টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাহি নীতি আবেশী”।।

চর্যাপদ গুলি মূলত গান হওয়ার ছন্দের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও এর শিথিলতা আছে। তা সত্ত্বেও প্রাকৃত পাদাকুলক ছন্দের আদর্শকে যথাসম্ভব অনুসরণের চেষ্টা এই পদ গুলির মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। কাজেই পদের আঙ্গিক সম্পর্কে পদকর্তা যে সচেতন ছিলেন এ কথা বলা যেতেই পারে।
সব মিলিয়ে চর্যাপদ কে উৎকৃষ্টমানের কাব্যের মর্যাদা না দিলেও বলা যায় ধর্মতত্ত্বের কাঠিন্য ভেদ করে তার মধ্যে কাব্যরসের উৎস ধারা প্রবাহিত হয়েছে। আর বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন রূপে নয় তার সমাজ দর্শন বাংলা সাহিত্যকে পথ দেখাতে যথেষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করেছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদ দিয়ে যার পথ চলা শুরু আধুনিক যুগেও সেই চর্যাপদের নতুন নতুন করে সৃষ্টি হয় কাব্যকলা লাভ করেছে।

চর্যাপদের ভাব আর ভাষা এযুগের কবিরাও অনুকরণ করেছে। যেমন চর্যাপদের দ্ব্যর্থকতা আমরা মধ্যযুগের কাব্য কবিতা এমনকি আধুনিক যুগের আধুনিক কবিতা গুলির মধ্যে লক্ষ্য করতে পারি। চর্যাপদ শুধু প্রাচীন যুগের কাব্যকলা নয় তা আধুনিক যুগের কাব্য কলার প্রাণপুরুষ। চর্যাপদে যে সমাজ দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে তা পরবর্তী বাংলা দেশের সমাজকে বর্ণনা করতে সাহায্য করেছে।

যদি সাহিত্য সমাজের দর্পণ হয়ে থাকে তবে চর্যাপদ সাহিত্যের প্রাণ রূপে সমস্ত সমাজের ইতিহাসকে সাহিত্যের মধ্যে তুলে ধরেছে । তাই সে দিক থেকে বিচার করলে চর্যাপদ প্রাচীন সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শনই নয় তা বাংলা সাহিত্যের এক মাইলফলক তারপর দাঁড়িয়ে সাহিত্য এত গৌরব লাভ করেছে।

Quiz

N.B: The Information/Job Details which is discussed above regarding the Recruitment Process, is the collection of data from different Employment Newspapers or Governmental Websites. We are not a Recruiter Agency or do not hold any kind of Recruitment Process. So Job Finders are requested to go to the Official website of the Government Organization for more details. We are not liable for any kind of Misunderstanding or False information given by the third party Media Agency or Website.

বি.দ্র: উপরে দেওয়া নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যগুলো বিভিন্ন সর্বভারতীয় চাকরির পত্রিকা বা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত | আমরা কোনো রকম Recruiter Agency নয় বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নই | সুতরাং চাকরি প্রার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে বিশদ বিবরণের জন্য আপনারা সরকারি ওয়েবসাইট দেখুন | তৃতীয় ব্যাক্তি বা ওয়েবসাইটের দেওয়া ভুল তথ্যের জন্য আমরা কোনো ভাবেই দায়ী নয় |

চর্যাপদের সাহিত্যমূল্য

By sup | 22-01-23

চর্যাপদের সাহিত্যমূল্য:-

সহজিয়াপন্থী নামে পরিচিত একশণীর বৌদ্ধ সাধক তাদের সাধনার গুঢ় তত্ত্ব কে লৌকিক জীবনের আধারে রূপক ও সংকেত এর সাহায্যে প্রকাশ করতেই চর্যাপদ রচনা করেছিলেন। তাই চর্যাপদ ধর্ম বিষয়ক রচনা হলেও গানগুলির সাহিত্যমূল্য কে একেবারে অস্বীকার করা যায় না।

বহুবিচিত্র অনুভব ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় চর্যাপদ এ , যার কোন কোন একটি পদ মানবিক আবেদনে রসসিক্ত। যেমন কুক্কুরী পাদের একটি পদে পাওয়া যায় –

“ফেটলিউ গো মাত্র অন্ত উড়ি চাহি”।

– অর্থাৎ মাগো আমি প্রসব করেছি এখন দরকার একটি আঁতুড়ঘরের। দুখিনী নারীর এই কাতর আর্তি একালের পাঠকের মনকে ছুঁয়ে যায়। আবার ঢেন ঢোন পাদের একটি পদে আমরা দেখতে পাই নিঃসঙ্গ আর বিড়ম্বিত জীবন কত বেদনার –
“টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাহি নীতি আবেশী”।।

চর্যাপদ গুলি মূলত গান হওয়ার ছন্দের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও এর শিথিলতা আছে। তা সত্ত্বেও প্রাকৃত পাদাকুলক ছন্দের আদর্শকে যথাসম্ভব অনুসরণের চেষ্টা এই পদ গুলির মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। কাজেই পদের আঙ্গিক সম্পর্কে পদকর্তা যে সচেতন ছিলেন এ কথা বলা যেতেই পারে।
সব মিলিয়ে চর্যাপদ কে উৎকৃষ্টমানের কাব্যের মর্যাদা না দিলেও বলা যায় ধর্মতত্ত্বের কাঠিন্য ভেদ করে তার মধ্যে কাব্যরসের উৎস ধারা প্রবাহিত হয়েছে। আর বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন রূপে নয় তার সমাজ দর্শন বাংলা সাহিত্যকে পথ দেখাতে যথেষ্ট ভূমিকা গ্রহণ করেছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদ দিয়ে যার পথ চলা শুরু আধুনিক যুগেও সেই চর্যাপদের নতুন নতুন করে সৃষ্টি হয় কাব্যকলা লাভ করেছে।

চর্যাপদের ভাব আর ভাষা এযুগের কবিরাও অনুকরণ করেছে। যেমন চর্যাপদের দ্ব্যর্থকতা আমরা মধ্যযুগের কাব্য কবিতা এমনকি আধুনিক যুগের আধুনিক কবিতা গুলির মধ্যে লক্ষ্য করতে পারি। চর্যাপদ শুধু প্রাচীন যুগের কাব্যকলা নয় তা আধুনিক যুগের কাব্য কলার প্রাণপুরুষ। চর্যাপদে যে সমাজ দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে তা পরবর্তী বাংলা দেশের সমাজকে বর্ণনা করতে সাহায্য করেছে।

যদি সাহিত্য সমাজের দর্পণ হয়ে থাকে তবে চর্যাপদ সাহিত্যের প্রাণ রূপে সমস্ত সমাজের ইতিহাসকে সাহিত্যের মধ্যে তুলে ধরেছে । তাই সে দিক থেকে বিচার করলে চর্যাপদ প্রাচীন সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শনই নয় তা বাংলা সাহিত্যের এক মাইলফলক তারপর দাঁড়িয়ে সাহিত্য এত গৌরব লাভ করেছে।

Quiz

Recommended Topics
0 0 votes
Article Rating
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments