চর্যাপদে সমকালীন সমাজ জীবন
By sup | 22-01-23

চর্যাপদে সমকালীন সমাজ জীবন:-

  • বিশুদ্ধ সাহিত্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে চর্যাপদ রচিত না হলেও চর্যাপদের কবিগণ বাস্তব জীবনের বিভিন্ন চিত্র কে রুপক হিসাবে ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন চার্জার পদগুলিতে। সমাজের বিভিন্ন রীতিনীতি সংস্কার সাহিত্যের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে। প্রাচীন যুগের সময় কালে বাংলার জনজাতি বিভিন্ন শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হলে সে কাহিনী যে কোন সাহিত্যে উঠে আসবে না তা কখনো হতে পারে না।
  • এই কারণেই খুব স্বাভাবিকভাবেই সমাজের বিভিন্ন ঘটনা চর্যাপদ এর বিভিন্ন পদে বারবার উঠে এসেছে। যদিও থাকে বৌদ্ধ সহজিয়া পন্থীরা দ্ব্যর্থবোধক ভাষায় পদগুলিতে উল্লেখ করেছেন তবুও তার মধ্যে আমরা চর্যাপদের সমকালীন সমাজ জীবন কে পরিস্কার ভাবে উপলব্ধি করতে পারি। চর্যাপদ গুলিতে সেই সময়কার সমাজ জীবনের যেসকল রীতিনীতি প্রথা ধরা পড়েছে সে গুলি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো –

বর্ণভেদ :: চর্যাপদের পদ গুলিতে নিম্নবর্গীয় মানুষের জীবনযাপন সংক্রান্ত তথ্যই বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। নিচু জাতি রা যেমন ডোম, শবর ইত্যাদি চর্যাপদ এর স্থান পেয়েছে ঠিক তেমনভাবে উচু জাতির কথাও চর্যাপদ বিবৃত করা হয়েছে। চর্যাপদ থেকে জানা যায় নিচু শ্রেণীর মানুষেরা সমাজের উঁচু স্তর থেকে দূরে বসবাস করত। এমনকি তারা পাহাড়ের ঢালে ঘর বেঁধে বসবাস করত। সমাজের উঁচু বর্ণের মানুষেরা এইসব নিম্নবর্ণের মানুষদের ছোঁয়া বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করত।

জীবিকা :: প্রাচীন বাংলার মানুষের যে কয়েকটি জীবিকার উল্লেখ আছে এই গ্রন্থে তা হল – তাঁত বোনা, চাঙ্গারি তৈরি, পশু শিকার করা, নৌকা বাওয়া, মাছধরা, মদ তৈরী জঙ্গলের গাছ কাটা প্রভৃতি।
আহার্য :: চর্যাপদের সমাজ ও আজকের দিনের সাধারণ বাঙালি সমাজের মত ছিল তা সেই সময়কার খাবার-দাবারের পরিচয় জানলে খুব সহজেই বোঝা যায়। তখনকার দিনে প্রধান খাদ্য হিসাবে ভাত ছিল। আর দুধ মাছ ও মাংসের উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন চর্যাপদ এর মধ্যে।

বিনোদন :: বিভিন্ন চর্যাপদে বারবার বিনোদনের বিষয়টিকে দেখা গেছে। সমাজ জীবনে যেমন দুঃখ ছিল কষ্ট ছিল ঠিক তেমনি এই বিনোদন থেকে দেখে মনে করা হয় তারা সমাজ জীবনের মধ্যে সবকিছু সঙ্গে বিনোদন কেউ এক করে নিয়েছিল। সেকালে মাদল, পটোহ, ডমরু, বাঁশি,একতারা, বীণা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র ছিল। অবসর বিনোদনের জন্য নব বল বা দাবা খেলা হতো।

দৈনন্দিন উপকরণ :: সেকালের একান্নবর্তী পরিবার গুলির দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ রূপে ব্যবহৃত হতো কুঠার, আয়না, তালা চাবি, হারি প্রভৃতি।

উৎসব অনুষ্ঠান :: চর্যাপদ এর যুগে বাজনা বাজিয়ে বরের বিবাহ করতে যাওয়ার প্রচলন ছিল। এমনকি যৌতুক প্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়। সামাজিক উৎসব অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে নাচ গান ও অভিনয়ের প্রচলন ছিল। একটি পদে নাটকের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চৌর্যবৃত্তি :: আলো-আঁধারি ভাষায় চর্যাপদ এর কয়েকটি পদে বিভিন্ন ভাবে চুরি মূলক আলোচনা করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় সেই সময়কার দিনেও চোর ডাকাতের উপদ্রব ছিল।

Quiz

N.B: The Information/Job Details which is discussed above regarding the Recruitment Process, is the collection of data from different Employment Newspapers or Governmental Websites. We are not a Recruiter Agency or do not hold any kind of Recruitment Process. So Job Finders are requested to go to the Official website of the Government Organization for more details. We are not liable for any kind of Misunderstanding or False information given by the third party Media Agency or Website.

বি.দ্র: উপরে দেওয়া নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যগুলো বিভিন্ন সর্বভারতীয় চাকরির পত্রিকা বা সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত | আমরা কোনো রকম Recruiter Agency নয় বা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নই | সুতরাং চাকরি প্রার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে বিশদ বিবরণের জন্য আপনারা সরকারি ওয়েবসাইট দেখুন | তৃতীয় ব্যাক্তি বা ওয়েবসাইটের দেওয়া ভুল তথ্যের জন্য আমরা কোনো ভাবেই দায়ী নয় |

চর্যাপদে সমকালীন সমাজ জীবন

By sup | 22-01-23

চর্যাপদে সমকালীন সমাজ জীবন:-

  • বিশুদ্ধ সাহিত্য সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে চর্যাপদ রচিত না হলেও চর্যাপদের কবিগণ বাস্তব জীবনের বিভিন্ন চিত্র কে রুপক হিসাবে ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন চার্জার পদগুলিতে। সমাজের বিভিন্ন রীতিনীতি সংস্কার সাহিত্যের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে। প্রাচীন যুগের সময় কালে বাংলার জনজাতি বিভিন্ন শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হলে সে কাহিনী যে কোন সাহিত্যে উঠে আসবে না তা কখনো হতে পারে না।
  • এই কারণেই খুব স্বাভাবিকভাবেই সমাজের বিভিন্ন ঘটনা চর্যাপদ এর বিভিন্ন পদে বারবার উঠে এসেছে। যদিও থাকে বৌদ্ধ সহজিয়া পন্থীরা দ্ব্যর্থবোধক ভাষায় পদগুলিতে উল্লেখ করেছেন তবুও তার মধ্যে আমরা চর্যাপদের সমকালীন সমাজ জীবন কে পরিস্কার ভাবে উপলব্ধি করতে পারি। চর্যাপদ গুলিতে সেই সময়কার সমাজ জীবনের যেসকল রীতিনীতি প্রথা ধরা পড়েছে সে গুলি সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো –

বর্ণভেদ :: চর্যাপদের পদ গুলিতে নিম্নবর্গীয় মানুষের জীবনযাপন সংক্রান্ত তথ্যই বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। নিচু জাতি রা যেমন ডোম, শবর ইত্যাদি চর্যাপদ এর স্থান পেয়েছে ঠিক তেমনভাবে উচু জাতির কথাও চর্যাপদ বিবৃত করা হয়েছে। চর্যাপদ থেকে জানা যায় নিচু শ্রেণীর মানুষেরা সমাজের উঁচু স্তর থেকে দূরে বসবাস করত। এমনকি তারা পাহাড়ের ঢালে ঘর বেঁধে বসবাস করত। সমাজের উঁচু বর্ণের মানুষেরা এইসব নিম্নবর্ণের মানুষদের ছোঁয়া বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করত।

জীবিকা :: প্রাচীন বাংলার মানুষের যে কয়েকটি জীবিকার উল্লেখ আছে এই গ্রন্থে তা হল – তাঁত বোনা, চাঙ্গারি তৈরি, পশু শিকার করা, নৌকা বাওয়া, মাছধরা, মদ তৈরী জঙ্গলের গাছ কাটা প্রভৃতি।
আহার্য :: চর্যাপদের সমাজ ও আজকের দিনের সাধারণ বাঙালি সমাজের মত ছিল তা সেই সময়কার খাবার-দাবারের পরিচয় জানলে খুব সহজেই বোঝা যায়। তখনকার দিনে প্রধান খাদ্য হিসাবে ভাত ছিল। আর দুধ মাছ ও মাংসের উল্লেখ পাওয়া যায় বিভিন্ন চর্যাপদ এর মধ্যে।

বিনোদন :: বিভিন্ন চর্যাপদে বারবার বিনোদনের বিষয়টিকে দেখা গেছে। সমাজ জীবনে যেমন দুঃখ ছিল কষ্ট ছিল ঠিক তেমনি এই বিনোদন থেকে দেখে মনে করা হয় তারা সমাজ জীবনের মধ্যে সবকিছু সঙ্গে বিনোদন কেউ এক করে নিয়েছিল। সেকালে মাদল, পটোহ, ডমরু, বাঁশি,একতারা, বীণা প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র ছিল। অবসর বিনোদনের জন্য নব বল বা দাবা খেলা হতো।

দৈনন্দিন উপকরণ :: সেকালের একান্নবর্তী পরিবার গুলির দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় উপকরণ রূপে ব্যবহৃত হতো কুঠার, আয়না, তালা চাবি, হারি প্রভৃতি।

উৎসব অনুষ্ঠান :: চর্যাপদ এর যুগে বাজনা বাজিয়ে বরের বিবাহ করতে যাওয়ার প্রচলন ছিল। এমনকি যৌতুক প্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়। সামাজিক উৎসব অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে নাচ গান ও অভিনয়ের প্রচলন ছিল। একটি পদে নাটকের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চৌর্যবৃত্তি :: আলো-আঁধারি ভাষায় চর্যাপদ এর কয়েকটি পদে বিভিন্ন ভাবে চুরি মূলক আলোচনা করা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় সেই সময়কার দিনেও চোর ডাকাতের উপদ্রব ছিল।

Quiz

Recommended Topics
0 0 votes
Article Rating
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments